• FAITH (IMAN)

    Islam is based on five things: the testimony that there is no god but Allah and that Muhammad (peace and blessings of Allah be upon him) is His servant and messenger, the observance of the prayer, the payment of Zakat, the pilgrimage, and the fast during Ramadan.(Bukhari, Muslim)

  • MAJOR SINS

    Avoid the seven noxious things.(1) Associating anything with God, (2) magic,(3) killing one whom God has declared inviolate without a just cause, (4) devouring usury, (5) consuming the property of an orphan, running back from the battlefield and, (7) slandering chaste women who are believers but indiscreet. (Bukhari, Muslim).

  • REMEMBRANCE OF ALLAH

    Hadhrat Jaabir (Allah be pleased with him) narrates that Muhammad (peace be upon him) said: “The distinguishing factor between kufr and Imaan is the deliberate neglect of Salaat.” (Muslim).

  • RIGHTS OF WIVES

    When a woman observes the five time of prayers, fasts during Ramadan, preserves her chastity, and obeys her husband, she may enter by any of the gates of paradise she wishes. (Abu Nu’aim)

  • SUPPLICATIONS (DUA)

    A man is granted supplication provided he does not ask for anything sinful or for breaking ties of relationship. (Muslim)

Showing posts with label এক নজরে কুর'আন এ কোথায় কি আছে. Show all posts

০১। কুর'আনের সহজ সরল বাাংলা অনুবাদ

0 comments
   সুরা 'আল ক্বামার' মক্কায় অবতীর্ণ কুর'আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরা। আল্লাহ তা'আলা এই সুরে একটি বিশেষ আয়াত চারবার উল্লেখ করেছেন। সে বিশেষ আয়াতটির অর্থ হচ্ছে, "অবশ্যই আমি শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যে কুর'আনকে সহজ করে দিয়েছি, অতএব আছে কি তোমাদের মাঝে কেও এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার?"
বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কুর'আন পাঠকের মতো আমার মনকেও এক সময় এই আয়াতটি দারুনভাবে নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে যখন দেখি আল্লাহ তা'আলার নাজিল করা আলোর এই একমাত্র উত্সতির ভাষান্তর করতে গিয়ে মানুষরা একে সহজ করার বদলে দিন দিন কঠিন ও দুর্বোধ্য করে ফেলেছে। যে 'আলো' একজন পথিককে আঁধারে পথ দেখাবে তা যদি নিজেই স্বচ্ছ না হয় তাহলে 'আলো' সামনে থাকা সত্তেও পথিক তো আঁধারেই হুচট খেতে থাকবে।
কুর'আন লাওহে মাহ্ফুযের অধিপতি আল্লাহ তা'আলার কালাম, এর ভাষাশৈলী, এর শিল্প সোন্দর্য সবই আল্লাহ তা'আলার একান্ত নিজস্ব। এ  কারণেই বিশ্বের সব কুর'আন গবেষকই মনে করেন, এই মহান গ্রন্থর যথার্থ ভাষান্তর কিংবা এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ কোনটাই মানব সন্তানের পক্ষে সম্বব নয়। যার কাছে এই বিস্ময়কর গ্রন্থটি নাজিল করা হযেছিল তাঁকে আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বলেই তার পক্ষে এই কিতাবের মর্মোদ্ধার করা সম্ববপর হযেছিল। এমনকি কুর'আন যাদের সর্বপ্রথম সম্বোধন করেছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর সে সাহাবীরাও কুর'আনের কোনো বক্তব্য অনুধাবনের বেপারে মতামত দেওয়ার আগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করে নিতেন। যদিও তারা নিজেরা সে ভাষায়ই কথা বলতেন, যে ভাষায় কুর'আন নাজিল হযেছিল। সম্ভবত এ কারণেই সাহাবায়ে কেরামদের বিদায়ের বহুকাল পর ও ভিন্ন ভাষাভাষী কুর'আনের আলেমরা কুর'আনের অনুবাদ কাজে হাত দিতে সাহস করেননি, কিন্তু দিনে দিনে কুর'আনের আলো যখন আরব উপদ্বীপ ছাড়িয়ে অনারব জনপদে ছড়িয়ে পড়ল, তখন কুর'আনের প্রয়জনে তথা ভিন্ন ভাষাভাষীদের সামনে কুর'আনের বক্তব্য তুলে ধরার জন্যে স্থানীয় জনগোষ্টির ভাষাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকলোনা। এমনি করেই অসংখ আদম সন্তানের অগনিত ভাষায় কুর'আন অনুবাদের যে স্রোতধারা শুরু হলো, আমাদের মায়ের ভাষা বাংলায় ও একদিন এর প্রভাব পড়ল। কুর'আনের পন্ডিত বেক্তিরা একে একে এগিয়ে এলেন নিজেদের স্ব-স্ব জ্ঞান গরিমার নির্যাস দিয়ে এই অনুবাদ শিল্পকে সাজিয়ে দিতে।
একথা স্বীকার করতেই হবে যে, উপমহাদেশের মুসলিম জনগুষ্টির শত শত বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভাষা হিসেবে আরবীর পরেই ছিল ফার্সি ও উর্দুর স্থান। স্বাভাবিকভাবেই কুর'আন অনুবাদের কাজ ও তাই এ দুটু ভাষায়ই বেশি হযেছে। সুলতানি আমলের শুরু থেকে মুসলমান শাসক নবাবরা যখন সংস্কৃত ভাষায় সীমিত গন্ডি থেকে বাংলা ভাষাকে বৃহত্তর জনগোষ্টির পরিমন্ডলে নিয়ে এলেন, তখন থেকেই ধীরে ধীরে এই ভুখন্ডে কুর'আনের বাংলা অনুবাদের প্রয়জন ও অনুভূত হতে লাগলো।
৪৭ ও ৭১ সালের পরপর দুটো পরিবর্তনের ফলে এ ভুখন্ডের মুসলমানরা নিজেদের ভাষায় কুর'আনকে বুঝার একটা ব্যাপক পরিসরে পা রাখার সুযোগ পেলো। অল্প কিছুদিনের মাঝেই কুর'আনের বেশ কযেকটি অনুবাদ বেরিয়ে গেল। নিতান্তই সীমিত পরিসরে হলেও আমাদের পশ্চিম বাংলার মুসলমানরাও এ সময়ের মধ্যে কুর'আনের কযেকটি অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। অবস্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুবাদক ও প্রকাশকরা তাদের অনুবাদ্কর্মকে কুর'আনের বাংলা অনুবাদ না বলে 'বাংলা কুর'আন শরীফ' বলে পেশ করার প্রয়াস চালিয়েছেন। আমাদের এই বাংলায়ও কিন্তু ইদানিং কুর'আনের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থের গায়ে 'বাংলা কুর'আন শরীফ' লেখার একটা অসুস্থ মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাজের দু'একজনের এই অগ্গাতপ্রসুত প্রয়াস সত্বেও মুসলমানদের বৃহত্তর জনগোষ্টির লোকেরা এগুলোকে কুর'আনের বাংলা অনুবাদ বলেই গ্রহণ করেছে। এই বিষয়টিকে বাদ দিলে আমাদের দেশে অনূদিত ও প্রকাশিত কুর'আনের প্রতিটি গ্রন্থই নানা বৈশিষ্টে বৈশিষ্টমন্ডিত। আল্লাহ তা'আলার কিতাবের মর্মকথা মানুষের কাছে পৌছানোর কাজে যে যতটুকু অবদান রেখেছেন আল্লাহ তা'আলা তাদের সবাইকে সে পরিমান 'জাজায়ে খায়ের' দান করুন।
কুর'আন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পাঠানো তাঁর বাণীসমূহের এক অপূর্ব সমাহার। সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিপ্লবের সিপাহসালারকে তাঁর মালিক যে সব দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তার অধিকাংশই বলতে গেলে পারিপার্শিকতার বিশ্লেষণ তথা এক একটি ঐতিহাসিক পটভুমির সাথে জড়িত। এ কারণেই কুর'আনের তাফসিরকাররা কুর'আন অধ্যায়নের জন্যে সমসামিক পরিস্থিতি জানার ওপর এত বেশি জোর দেন।

তারপরও কুর'আনের মূল অনুবাদ কিন্তু কুর'আন পাঠকের কাছে জটিলই থেকে যায়। অনেক সময় মূল কুর'আনের আয়াতের হুবহু বাংলা অনুবাদ করলে কুর'আনের বক্তব্য মোটেই পরিষ্কার হয়না। সেক্ষেত্রে কুর'আনের একজন নিষ্ঠাবান অনুবাদককে অনুবাদের সাথে ভেতরের উহ্য কথাটি জুড়ে দিয়ে বক্তব্যের ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দিতে হয়। আরবি ভাষার ব্যাকরণ ও বাক্য গঠন প্রক্রিয়ায় এগুলুর প্রচলন থাকলেও বাংলা ভাষায় এ বিষয়গুলো কুর'আনের পাঠককে মাঝে মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত করে ফেলে। তারা হেদায়াতের এই মহান গ্রন্থে এসব অসংলগ্নতা দেখে বর্ণনাধারার 'মিসিং লিংক' খোঁজার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণেই সচেতন অনুবাদকরা এ সব ক্ষেত্রে নিজের কথার জন্যে 'ব্রাকেট' কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন ধরনের টাইপ বাবহার করে সেই মিসিং লিংকটাকে মিলিয়ে দেন। আমাদের মধ্যে যারা 'তাফসীরে জালালাইন' পড়েছেন তারা সেখানে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য করে থাকবেন। এই তাফসীরে বিজ্ঞ তাফসীরকাররা তাদের নিজেদের কথাকে 'আন্ডার লাইন' করে আল্লাহ তা'আলার কথা থেকে আলাদা করে নিয়েছেন। কোরআনে অ ধরনের বহু আয়াত রয়েছে, এখানে উদাহরণ হিসেবে সুরা 'আল মায়েদা' ৬, সুরা ইউসুফ ১৯, সুরা 'আর রাদ' ৩১, সুরা 'আয যুমার' ২২, সুরা 'কাফ' ৩ এই আয়াত্গুলুর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এ আয়াত গুলুর অনুবাদের প্রতি তাকালে একজন পাঠক নিজেই এ বিষয়টি বুজতে পারবেন, কি ধরনের ধারাবাহিকতার কথা আমি এখানে বলতে চেয়েছি। আমাদের এই গ্রন্থে অনুবাদের সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যে আমরা আল্লাহ তা'আলার কথা থেকে নিজেদের কথা আলাদা করার জন্যে এ ধরনের () 'ব্রাকেট' বাবহার করেছি। কুরআনের মালিককে হাজির নাজির জেনে আমরা যেমন চেষ্টা করেছি ব্রাকেটের ভেতর আল্লাহ তা'আলার কথা না ঢুকাতে তেমনি চেষ্টা করেছি ব্রাকেটের বাইরে অনুবাদকের কথা না ছড়াতে। তারপরও যদি কোথাও তেমন কিছু ভুল ত্রুটি থেকে যায় তা আগামীতে শুদ্ধ করে নেআর কঠিন প্রতিজ্ঞার পাশাপাশি আমার মালিককে বিনীত চিত্তে বলবো, হে আল্লাহ, তুমি আমার ভেতর বাইর সবটার খবরই রাখো, আমার নিষ্ঠার প্রতি দয়া দেখিয়ে তুমি আমার সীমাবদ্ধতা মাফ করে দিও।


অনুবাদক: হাফেজ মুনির উদ্দিন আহমদ
লন্ডন, ১ মহররম ১৪২৩ হিজরী 
১৫ই মার্চ ২০০২ মূ 



{ব্লগারের বি:দ্র: লেখায় কোনো প্রকার ভুল থেকে থাকলে ক্ষমা চুখে দেখবেন অথবা আমাদের মেইল করবেন আমরা তা শুদ্রে নিব, আর কুরআনের এই অনুবাদ গ্রন্থটি পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

পোষ্টটি শেয়ার করে অন্যে জানার সুযুগ করে দিন মনে রাখবেন নিন্মের হাদিসটি।

"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান

সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি 

হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪] 

Read More »

০২। কুরআন শরীফ অনুবাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

0 comments

    অনুবাদ বা ভাষান্তর এমনিতেই একটি জটিল বিষয়। কুরআনের মতো একটি আসমানী গ্রন্থের বেপারে জটিলতার সাথে স্পর্শকাতরতার বিষয়টিও জড়িত। মানুষের তৈরী গ্রন্থের  বক্তার কথার হুবহু ভাষান্তর না হলে তেমন কি-ই বা আসে যায়। বড়জোর বলা যায় অনুবাদক মূল লেখকের কথাটার সাথে যথাযথ ইনসাফ করতে পারেননি, কিন্তু কুরআনের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে অনুবাদের একটু হেরফের হলে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার কতাই বিতর্কিত হয়ে পরার আশংকা দেখা দেয়। এসব কারণেই মুসলমানদের মাঝে কেউই এক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কুরআনের অনুবাদের ঝুঁকি নিতে চায়নি। এমনকি বিগত শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্য এশিয়ার আলেমরা ফতুয়ার মাধ্যমে তাতারী ভাষায় কুরআনের যাবতীয় অনুবাদ প্রদেষ্টাকে বন্দ করে রাখেন। আফ্রিকা মহাদেশে বিশেষ করে নাইজেরিয়া ও নাইজারে হাউসা হচ্ছে আরবীর পর সর্বাধিক সমৃদ্ধ ভাষা। এই ভাষার আলেমরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাদের ভাষায় কুরআনের অনুবাদকে এই বলে বন্ধ করে রাখেন যে, এতে কুরআনের মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। এই মহাদেশের কেমেরুন রাজ্যের সুলতান সাইয়িদ নিজেও আলেমদের প্রবল বিরোধিতার কারণে বামুম ভাষায় কুরআন অনুবাদ কাজ থেকে ফিরে আসে। মুসলিম দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ বিদ্ধাপীঠ আল আজহার বিসবিদ্ধালয়ের ফতুয়া বোর্ডও তো এই সেদিন পর্যন্ত কুরআনের যাবতীয় অনুবাদকর্মের বিরোধিতা করে আসছিল।

১৯২৬ সালে তুরস্কে ওসমানী খেলাফত বিলুপ্তির পর তুর্কি ভাষায় কুরআন অনুবাদ প্রচেষ্টার তারা বিরুধিতা করেন। কুরআনের ইংরেজি অনুবাদক নও মুসলিম মার্মাডিউক পীকথল যখন কুরআনের অনুবাদ করার উদ্ধোগ গ্রহন করেন তখন হায়দারাবাদের শাসক নিজাম তাকে সর্বাত্মক সহযুগিতা দিলেও আল আজহার কর্তিপক্ষ এ উদ্দুগের তীব্র বিরুধিতা করেন। অবস্য দীর্ঘদিন পর হলেও মক্কাভিত্তিক মুসলিম সংস্থা রাবেতা আল আলামে ইসলামী আয়োজিত বিশ্বের সর্বমতের ওলামা কুরআন অনুবাদের একটি ঘোষণাপত্রে সই করে এ পথের যাবতীয় বাধা  অপসারণ করেন, কিন্তু এটা তো ১৯৮১ সালের কথা, মাত্র সেদিনের ঘটনা। অবস্য এরও বহু আগে ইংরেজ লেখক জর্জ সেল কুরআনের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। ১৭৩৪ সালে এই অনুবাদ কর্মটির প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়।
১৭৬৪ সালে তার পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ মুদ্রিত হয়। ১৮২৫ সালে এটি পুনর্মুদ্রিত হয়।

আমরা যদি আজ কুরআনের ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা দেখতে পাবো যে, কুরআন অনুবাদের এই মুবারক কাজটি স্বয়ং তাঁর হাতেই শুরু হয়েছে যার ওপর এই কুরআন নাজিল হয়েছে। আমরা জানি, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম তাঁর আন্দোলনের এক পর্যায়ে তত্কালীন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূত পাঠাতেন। তাঁর পাঠানো এসব চিঠিতে অবশ্যই একাধিক কুরআনের আয়াত লেখা থাকত। যেসব দেশের রাজা বাদশাহরা আরবি বুজতেন না রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর দূত তাদের কাছে গোটা চিঠির সাথে সেসব আয়াতের তরজমাও পেশ করতেন। একারণেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট রাষ্ট্র নায়ক প্রিয় নবী যে দূতকে যে দেশে পাঠাতেন তাকে আগেই সে দেশের ভাষা শিখতে বলতেন। অধিকাংশ নতুন এলাকায় তিনি পারদর্শী দোভাশিও পাঠাতেন। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে সাদ বলেছেন আল্লাহর নবী সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষায় অভিজ্ঞ লোকদেরই দূত করে পাঠাতেন। ইবনে সাদ আরো বলেছেন যে, প্রিয়নবী তার বেক্তিগত সহকারী ওহি লেখক হজরত যায়েদ বিন সাবেতকে সিরিয়ান ও হিব্রু ভাষা শেখার আদেশ দিয়েছিলেন। তাছাড়া আমির বিন ওমাইয়া যে আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাসির কাছে লেখা রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম) এর আরবি চিঠিকে আমহারিক ভাষায় অনুবাদ করেছেন তারও একাধিক প্রমান ইতিহাস গ্রন্থে মজুদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম) এর সময়ের কুরআনের এসব আংশিক অনুবাদ ছিল অনেকটা মুখে মুখে। কোথায়ও লিখিত আকারে এগুলুকে কুরআনের আয়াতের অনুবাদ হিসেবে কেও সংরক্ষণ করেনি। পরবর্তী সময়ে যখন কুরআনের বাণী নিয়ে আল্লাহর রসুলের ঝাঁবাজ সাথীরা দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়লেন তখন এর প্রয়জনীয়তা তীব্র হয়ে দেখা দিল। কুরআনের বিষয়বস্তু ও ভাষাশৈলীর স্পর্শকাতরতার কারণে কুরআনের গবেষকরা প্রথম দিকে নানান রকম আপত্তি উত্থাপন করলেও শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষায় ছড়িয়ে পড়ল। বাইরের পরিমন্ডলে এসে সম্ভবত ফার্সি ভাষায়ই সর্বপ্রথম কুরআন অনুদিত হয়েছে। প্রিয় নবীর ইন্তেকালের প্রায় ৩৫০ বছর পর ইরানের শাসানি বাদশাহ আবু সালেহ মনসুর বিন নুহ কুরআনের পূর্ণাঙ্গ ফার্সি অনুবাদ করেন। কুরআনের ফার্সি অনুবাদের এই বিরল কাজের পাশাপাশি তিনি মুসলিম ইতিহাসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ তাফসীর গ্রন্থ ইমাম মোহাম্মদ বিন জারীর আত তাবারীর ৪০ খন্ডে সমাপ্ত বিশাল আরবী 'তাফসীর জামেউল বয়ান আত তাওয়িলুল কুরআন'-এর ফার্সি অনুবাদ করেন। আমাদের এই উপমহাদেশে শাহ ওয়ালী উল্লাহ মহাদ্দেসে দেহলভী কুরআনের যে ফার্সি অনুবাদ করেছেন তা ছিল আরো ৮০০ বছর পরের ঘটনা। প্রায় একই সময়ে অর্থাৎ ১৭৭৬ সালে শাহ রফিউদ্দিন ও ১৭৮০ সালে শাহ আব্দুল কাদের কুরআনের উর্দু অনুবাদ করেন।

বাংলা ভাষায় কুরআন অনুবাদের কাজটি আসলেই অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে। এর পেছনে কারণও ছিল অনেক। প্রথমত আমাদের এই ভুখন্ডের যারা কুরআনের ইলমের সাথে সুপরিচিত ছিলেন সেসব কুরআন সাধকদের অনেকেরই কুরআন শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিল  ভারতের উর্দু প্রদান এলাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান দেওবন্দ, সাহারানপুর, নদওয়া, জামেঅতুল ইসলাহ, জামেআতুল ফালাহ্সহ উর্দু ভাষাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর সবকয়টির ভাষাই ছিল উর্দু কিংবা ফার্সি, তাই স্বাভাবিকভাবেই এসব দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থেকে যারা উচ্চ্তর সনদ নিয়ে বের হন তাদের কুরআন গবেষনার পরিমন্ডলও সে ভাষার বাইরে ছড়াতে পারেনি।
দ্বিতীয়ত পলাশীর ট্রাজেডির ফলে আমাদের এ অঞ্চলে কুরআন গবেষনার কাজটি নানারকম পঙ্গুত্বের কারণে একরকম দেওলিয়া হয়ে পড়েছিল। ফলে বাংলা আসামে কুরআনের আশানুরূপ কোনো অনুবাদই হয়নি। তৃতীয় কারণ হিসেবে বাংলা মুদ্রণ যন্ত্রের কথা উল্লেখ করতে হয়। ১৭৭৭ সালে মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার হলেও এ অঞ্চলের মুসলমানরা ১৮১৫ সালের আগে বাংলা মুদ্রণ যন্ত্রের সাথে পরিচিত হবার কোনো সুযোগই পায়নি।
কে প্রথম কুরআনের বাংলা অনুবাদের সাঅভাগ্যজনক এ কাজটি শুরু করেন, তা নিয়ে আমাদের মাঝে বিভ্রান্তির অন্ত নেই। কে বা কারা আমাদের সমাজে একথাটা চালু করে দিয়েছে যে, ব্রাম্মন ধর্মের নব বিধান মন্ডলীর নিষ্ঠাবান ধর্মপ্রচারক গিরিশ চন্দ্র সেন সর্ব প্রথম কুরআনের বাংলা অনুবাদ করেছেন। আসলে আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন   সর্বময় আধিপত্য বিরাজমান তারাই যে কথাটা ছড়িয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দুঃখ লাগে যখন দেখি আমাদের এ অঞ্চলের দু'একজন কুরআনের মুদ্রাকর ও প্রকাশকও তাদের সাথে সুর মিলিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ঐতিহাসিকভাবে অসমর্থিত এমনি একটি কথা অবাধে প্রচার করে চলেছেন। অথচ কুরআন ও কুরআনের শিক্ষার প্রতিটি ছাত্রই জানেন যে তার অনুবাদের পাতায় কুরআনের শিক্ষা সৌন্দর্য বাকধারার সাথে ব্রাম্মবাদের প্রচারনিতিতে কুরআনের প্রতি মাহীন বিদ্বেষ ছড়ানো রয়েছে।

গিরিশচন্দ্র সেনের ৬ বছর আগে অর্থাৎ ১৭৭৯ সালে আরেকজন অমুসলিম রাজেন্দ্রলাল মিত্র কুরআনের প্রথম পারার অনুবাদ করেন।  কলকাতার আয়ুর্বেদ প্রেস নামক একটি ছাপাখানা থেকে এক ফর্মার (১৬ পৃষ্ঠা) এই অনুবাদটি ৫০০ কপি ছাপাও হয়েছিল।

১৮৮৫ সালে গিরিশ চন্দ্রসেনের এই অনুবাদের প্রায় ৮০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮০৮ সালে পূর্ব বাংলার রংপুর নিবাসী একজন সাধারণ কুরআন কর্মী মওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদের কাজে হাত দেন। তিনি সে সময় কুরআনের আমপারার অনুবাদ সম্পন্ন করেন। এই ঐতিহাসিক তথ্যের সমর্থন রয়েছে ঢাকা ও কলকাতার প্রায় সব্কয়জন কুরআন গবেষকের লেখায়। উভয়বাংলার প্রায় সবকয়টি কুরআন গবেষণা সংস্থা, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই এ বেপারে একমন যে, মওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়াই সে সোভাগ্যবান মানুষ যেনি বাংলা ভাষায় কুরআন অনুবাদের এই  মহান কাজটির সুচনা করেছেন।  গত এক দশকে আমাদের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় কুরআন অনুবাদের ইতিহাসের ওপর যে সব পি এইচ ডি থিসিস লেখা হয়েছে তাতেও এ তথ্য সমভাবে সমর্থিত হয়েছে। ১৮১৫ সালে বাংলা মুদ্রণ যন্ত্রের ব্যবহারের পরপর কলকাতার মির্জাপুরের পাঠোয়ার বাগানের অধিবাসী আকবর আলী এ কাজে এগিয়ে আসেন। তিনিও মাওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়ার মতো শুধু আমপারা ও সুরা ফাতেহার বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন। তার অনূদিত অংশটি ছিল পুথির মতো। তার এ অনুবাদটি কুরআনের কোনো মওলিক অনুবাদও ছিলনা। তিনি যেটা করেছেন তা ছিল ১৭৮০ সালে  অনুদিত শাহ আব্দুল কাদেরের উর্দু অনুবাদের বাংলা। সরাসরি কুরআনের অনুবাদ নয় বলে সুধী মহলে এটা তেমন একটা স্বীকৃতি লাভ করেনি। আসলে ব্যক্তি যতো গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন তিনি যদি কুরআনকে কুরআন থেকে অনুবাদ না করেন তাহলে তাকে কখনো কুরআনের অনুবাদ বলে চালিয়ে দেয়া উচিত নয়। কুরআনের ব্যাকরণ, বিধি বিশেষ বাকধারা, ভাষা শৈলী, শিল্প সোন্দর্য সর্বপরি কুরআনের 'ফাছাহাত বালাগাত' না জেনে কুরআনের অনুবাদে হাত দেওয়া কারোরই উচিত নয়।

কুরআনের প্রথম অনুবাদক মওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করে যেতে পারেননি। পরবর্তী সময়ের গিরিশচন্দ্র সেনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ কর্ম যেটা তখন বাজারে প্রচলিত ছিল তাও ছিল নানা দোষে দুষ্ট, তাই তার অনুবাদের মাত্র ২ বছরের ভেতরই কুরআনের বিশস্ত ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ কর্ম নিয়ে হাজির হয়েছেন বিখ্যাত কুরআন গবেষক মাওলানা নাইমুদ্দিন। এর আগে কলকাতার একজন ইংরেজ পাদ্রিও কুরআনের অনুবাদ করেছিলেন। শোনা যায় মাওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া থেকে গিরিশচন্দ্র সেন পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮০৮ থেকে ১৮৮৫ সালের মধ্যে আরো ৯ জন ব্যক্তি কুরআন অনুবাদ করেছেন।
বাকি আল্লাহ আলম

{বি:দ্র: লেখায় কোনো প্রকার ভুলত্রুটি থেকে থাকলে পারলে শুদ্রে নিবেন না হলে আমাদের  মেইল করবেন ইনশাআল্লাহ আমরা তা অনতিবিলম্বে ঠিক করে দিব।}
আর্টিকেল টি পরা মাত্র শেয়ার করতে ভুল করবেন না মনে রাখবেন আপনার দ্বারা জানিত যদি কেও একটা আমল ও করে তাহলে তার সওয়াব আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ।
আর নিন্মে দেওয়া হাদিস টির কথা মনে রাখবেন সব সময়।
"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান 

সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি 

হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪] 

Read More »

০৩। কুর'আন শরীফ এর ক্রম্বিন্নাশ ও ইতিহাস : প্রথম ওহি

0 comments

প্রথম ওহি  "পড় তোমার মালিকের নাম যিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। (সুরা আলাক্ব ১-৫)"
সর্বশেষ ওহী "সে দিনকে ভয় করো যেদিন তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। (সুরা আল বাক্বারা ২৮১), 
'আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দিনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্যে জীবন বিধান হিসেবে আমি ইসলামের ওপর সন্তুষ্ট হলাম।' (সুরা আল মায়েদা ৩).
নাযিলের মোট সময় প্রায় ২২ বছর ৫ মাস।


{বি:দ্র: লেখায় কোনো প্রকার ভুলত্রুটি থেকে থাকলে পারলে শুদ্রে নিবেন না হলে আমাদের  মেইল করবেন ইনশাআল্লাহ আমরা তা অনতিবিলম্বে ঠিক করে দিব।}
আর্টিকেল টি পরা মাত্র শেয়ার করতে ভুল করবেন না মনে রাখবেন আপনার দ্বারা জানিত যদি কেও একটা আমল ও করে তাহলে তার সওয়াব আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ। 
আর নিন্মে দেওয়া হাদিস টির কথা মনে রাখবেন সব সময়।
"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান 

সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি 

হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Read More »

০৪। কুর'আন নাজিলের শুরু

0 comments

কুরআন নাজিলের ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহ তা'আলা মোহাম্মদ -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- কে স্বপ্নের মাধ্যমে এ মহান কাজের জন্যে প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন। ইতিহাসের প্রমান অনুযায়ী প্রথম ওহী এসেছিল রমজান মাসের ২১ তারিখ সোমবার রাতে। মোহাম্মদ -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- এর বয়স ছিল তখন ৪০ বছর ৬মাস ১২ দিন। 

হযরত আয়শা -রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা- থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- এর ওপর ওহী নাযিলের সূচনা হয়েছিল স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা দিনের আলোর মত তাঁর জীবনে প্রতিভাত হত। এক টুকরো দৃশ্যমান ছবি তাঁর অন্তরে সদা ভাস্বর হয়ে থাকত। জিব্রাইল -'আলাইহিস সালাম- এর মাধ্যমে ওহী প্রাপ্তির আগে আস্তে আস্তে তিনি নির্জনতাপ্রিয় হয়ে উঠেন, হেরা গুহায় নিভৃতে আল্লাহ তা'আলার ধ্যানে তিনি মশগুল হয়ে পড়েন এবং বিশাল সৃষ্টি ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন। এভাবেই হেরা গুহায় তাঁর রাত আর দিন কাটে। খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেলে সেসব নেওয়ার জন্যই তিনি শুদু বাড়ি ফিরেন। মাঝে মাঝে প্রিয় স্ত্রী খাদিজা -রাদিয়াল্লাহু আনহা-ও  হেরা গুহায় তাঁর খাবার দিয়ে আসেন। এমনি করে একদিন তাঁর কাছে আল্লাহর ফেরেশতা জিব্রাইল -আলাইহিস সালাম- এসে গম্ভীর কন্ঠে তাঁকে বললেন, 'ইক্রা' -পড়ুন। মোহাম্মদ -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। উদ্বেলিত কন্ঠে বললেন 'আমি তো পড়তে জানিনা।' জিব্রাইল (আ:) তাঁকে বুকে চেপে ধরে আবার বললেন, পড়ুন।
তিনি পুনরায় বললেন, আমি তো পড়তে জানিনা। জিব্রাইল (আ:) আবার তাঁকে বুকে জড়িয়ে চেপে ধরলেন এবং বললেন, পড়ুন। তৃতীয় বার যখন ফেরেশতা তাঁকে বুকে আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন, এবার মোহাম্মদ -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- ওহীর প্রথম পাঁচটি আয়াত পড়লেন। অত:পর তিনি ঘরে ফিরলেন। প্রিয়তমা সঙ্গীকে বললেন, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। হযরত খাদিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা- প্রিয় নবীকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দিলেন। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাস করলেন, কি হয়েছে আপনার? আপনি এমন কাঁপছেন কেন?
রাসুল -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- বললেন, একজন অভিনব ব্যক্তি আমার কাছে এসে আমাকে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে জানিনা। তারপর তিনি তিন তিন বার আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন, অত:পর তার সাথে আমি পড়তে শুরু করলাম। তাঁর কথা শুনে খাদিজা -রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা- বললেন, আপনার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।  কেননা আপনি মানুষের উপকার করেন, মানবতার সেবা করন, এতিমদের আশ্রয় দেন, মহান আল্লাহ আপনার কি কোনো ক্ষতি করতে পারেন!
খাদিজা -রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা- প্রিয় নবীকে তাঁর চাচাত ভাই ওরাকা ইবনে নওফেলের কাছে নিয়ে গেলেন। ওরাকা ইবনে নওফেল ছিলেন ঈসায়ী ধর্মের আলেম এবং হিব্রু ভাষার পন্ডিত ব্যক্তি। সে সময় তিনি বয়সের ভারে আক্রান্ত এবং দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। হযরত খাদিজা -রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা- বললেন, ভাইজান, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। রাসুল -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- তাকে হের গুহার সব ঘটনার কথা বর্ণনা করলেন। শুনে অরকা বললেন, তিনি সে-ই দূত জিব্রাইল, যিনি হযরত মুসা -আলাইহিস সালাম- এর কাছে ওহীর বাণী নিয়ে আসতেন। হায়, আমি যদি সে সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতাম যখন তোমার কওমের লোকেরা তোমাকে জন্মভূমি থেকে বের করে দিবে। রাসুল -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- অবাক হয়ে বললেন, কেন আমাকে তারা মাতৃভূমি থেকে বের করে দিবে? ওরাকা বললেন, তুমি যে ওহী লাভ করেছ, এ ধরনের ওহী যখনই কোনো নবী পেয়েছেন তাঁর সাথে এভাবেই স্বজাতির পক্ষ থেকে শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি সে দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকি তাহলে অবশ্যই আমি তোমার সাহায্যে এগিয়ে আসব।



{বি:দ্র: লেখায় কোনো প্রকার ভুলত্রুটি থেকে থাকলে পারলে শুদ্রে নিবেন না হলে আমাদের  মেইল করবেন ইনশাআল্লাহ আমরা তা অনতিবিলম্বে ঠিক করে দিব।}
আর্টিকেল টি পরা মাত্র শেয়ার করতে ভুল করবেন না মনে রাখবেন আপনার দ্বারা জানিত যদি কেও একটা আমল ও করে তাহলে তার সওয়াব আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ।
আর নিন্মে দেওয়া হাদিস টির কথা মনে রাখবেন সব সময়।
"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান 

সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি 

হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Read More »

০৫। কুর'আন লিপিবদ্ধ করণ

0 comments

যখন থেকে কুরআন নাযিল শুরু হয়, সেদিন থেকেই আল্লাহর রাসুল -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম- তা লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্যে পারদর্শী সাহাবীদের নিযুক্ত করতে আরম্ভ করেন। হযরত যায়দ বিন সাবেত -রাদ্বিয়াল্লাহু আনহ- ছাড়া আরো ৪২ জন সাহাবী এ কাজে নিযুক্ত ছিলেন। এ সম্পর্কে রাসুল -সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম-  বলেন, তোমরা কুরআন ছাড়া আমার কাছ থেকে অন্য কিছু লিখোনা।




{বি:দ্র: লেখায় কোনো প্রকার ভুলত্রুটি থেকে থাকলে পারলে শুদ্রে নিবেন না হলে আমাদের  মেইল করবেন ইনশাআল্লাহ আমরা তা অনতিবিলম্বে ঠিক করে দিব।}
আর্টিকেল টি পরা মাত্র শেয়ার করতে ভুল করবেন না মনে রাখবেন আপনার দ্বারা জানিত যদি কেও একটা আমল ও করে তাহলে তার সওয়াব আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ। 
আর নিন্মে দেওয়া হাদিস টির কথা মনে রাখবেন সব সময়।
"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান 

সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি 

হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Read More »

০৬। কুর'আন এর ভিবিন্ন পরিসংখ্যান

0 comments


Read More »

০৭। কুর'আন শরীফ এ সেজদার সংখ্যা সর্বর্সম্মত ১৪ ( মত পার্থক্কে ১৫)

0 comments


Read More »

০৮। কুর'আন মুদ্রণ ইতিহাস

0 comments


Read More »

০৯। কুর'আন এ নুকতা

0 comments


Read More »

১০। কুর'আন এ হারকাত

0 comments


Read More »

১১। হারাকাত ও নোক্তা ইত্যাদি সংখ্যা

0 comments


Read More »

১২। বিভিন্ন অক্ষরের সংখা

0 comments


Read More »

১৩। কুর'আন এ শব্দ সংখা

0 comments


Read More »

১৪। কুর'আন আয়াত সংখা

0 comments


Read More »

১৫। বিষয় বিত্তিক আয়াত

0 comments


Read More »

১৬। রুকুর সংখ্যা

0 comments


Read More »

১৭। পারা সমূহ

0 comments


Read More »

১৮। মঞ্জিল সমূহ ও এর বিবক্তি করণ

0 comments


Read More »

১৯। কুর'আন এ বর্ণিত ১০ জন মহিলার ক্রমিক নং কুর'আন এ যেবাবে এসেছে সুরার নাম

0 comments


Read More »

২০। কুর'আন এ উল্লেখিত ধন্গ্সপ্রাপ্তি জাতি সমূহের নাম

0 comments


Read More »